ফোনটা বাজল। ওপাশ থেকে বলল, “বিকেলে আসছি, বেশি কিছু করো না।” আর আপনি ফোন রেখেই ড্রয়িংরুমের দিকে তাকালেন। সোফার কোনায় গত সপ্তাহের খবরের কাগজ, টেবিলের উপর আধখোলা টিস্যুর প্যাকেট, দেয়ালটা কেমন খালি খালি লাগছে।
“বেশি কিছু করো না” কথাটা আমরা সবাই শুনি, আর কেউই মানি না। কারণ আমরা জানি, মেহমান ঘরে ঢুকে প্রথম দুই মিনিটে যা দেখে, সেটাই মনে রাখে। খাবার কেমন হলো সেটা পরে আসে।
ভালো খবর হলো, মেহমানের চোখ পুরো ঘরে যায় না। যায় কয়েকটা নির্দিষ্ট জায়গায়। সেই জায়গাগুলো ঠিক করলেই পুরো ঘর গোছানো লাগে। নিচের 7টা কাজ 30 মিনিটে হয়, আর এর একটাতেও নতুন ফার্নিচার লাগে না।
এক নজরে 7টা জায়গা
1. যে টেবিলটা মেহমানের সামনে থাকে
সোফায় বসে মেহমান যে টেবিলটার দিকে তাকিয়ে থাকে, সেটা হলো সেন্টার টেবিল বা সাইড টেবিল। চা আসার আগ পর্যন্ত তার চোখ এখানেই। আর এই টেবিলেই সাধারণত সবচেয়ে বেশি এলোমেলো জিনিস জমে: রিমোট, চার্জার, ওষুধের পাতা, টিস্যুর প্যাকেট।


নিয়মটা সহজ। টেবিলে তিনটার বেশি জিনিস থাকবে না। একটা কাজের জিনিস (যেমন টিস্যু), একটা সুন্দর জিনিস (ছোট একটা গাছ), আর একটা খালি জায়গা, যেখানে চায়ের কাপটা রাখা যায়। বাকি সব ড্রয়ারে।
টিস্যু নিয়ে একটা কথা। প্লাস্টিকের প্যাকেটে টিস্যু টেবিলে রাখলে টেবিলটা দোকানের কাউন্টারের মতো লাগে, যত দামি টেবিলই হোক। একটা সুন্দর টিস্যু বক্স কভারে সেই একই টিস্যু ঘরের সাজের অংশ হয়ে যায়। বাজারের 150 প্লাইয়ের প্যাকেট টিস্যু প্যাকেটসহ ভেতরে ঢুকে যায়, আলাদা করে খুলে ভরতে হয় না। এটা ঘরের সবচেয়ে ছোট বদল, কিন্তু মেহমানরা সবচেয়ে বেশি যেটা খেয়াল করেন, তার একটা।
2. দরজা খুললেই যে দেয়ালটা দেখা যায়
মেহমান দরজায় দাঁড়িয়ে জুতা খুলতে খুলতে যে দিকে তাকায়, সেটাই আপনার ঘরের প্রথম ছাপ। বেশিরভাগ বাসায় এই দেয়ালটা হয় খালি, নয়তো ক্যালেন্ডার ঝোলানো।

এখানে একটা জিনিসই যথেষ্ট। একটা ওয়াল ডেকর, একটা ছবি, বা একটা হাতে বোনা ওয়াল ম্যাট। বড় হতে হবে না। চোখের উচ্চতায় একটা জিনিস থাকলেই দেয়ালটা “খালি” থেকে “সাজানো” হয়ে যায়। জুতার র্যাকটা নিচু আর গোছানো থাকলে দেয়ালের জিনিসটা আরও চোখে পড়ে। মেহমান ভেতরে ঢোকার আগেই মনে মনে বলেন, “বাহ, সুন্দর তো।”
3. ফল রাখার জায়গাটা
ফল একটা অদ্ভুত জিনিস। পলিথিনে রাখলে মনে হয় বাজার থেকে এইমাত্র এসেছে, আর ঝুড়িতে রাখলে মনে হয় ঘরটা যত্নে চলে। একই আম, একই কলা।


ডাইনিং টেবিলের মাঝখানে বা কিচেন কাউন্টারে একটা ফলের ঝুড়ি রাখুন। মেহমান এলে ফল কাটার আগে ঝুড়িটাই টেবিলে দিয়ে দিতে পারেন। এতে দুটো কাজ হয়: টেবিল সাজানো লাগে, আর “কিছু একটা দিতে হবে” চাপটাও কমে। টেবিলে প্লাস্টিকের কভার থাকলে সেদিনের জন্য একটা সাধারণ সুতির রানার বিছিয়ে দিন, তফাতটা চোখে পড়বে।
4. যে জিনিসগুলোর লুকানোর জায়গা নেই
প্রতিটা ঘরে এমন কিছু জিনিস থাকে যেগুলোর কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই: চাবি, চশমা, হাতঘড়ি, বাচ্চার ছোট খেলনা, বিলের কাগজ। মেহমান আসার আগে এগুলো আমরা তাড়াহুড়ো করে কোনো ড্রয়ারে ঠেসে দিই, আর পরে খুঁজে পাই না।

সমাধান হলো একটা “সব কিছুর বাক্স”। একটা ঢাকনাওয়ালা অর্গানাইজার বক্স, যেটা দেখতে সুন্দর বলে টেবিলেই থাকতে পারে। মেহমান আসার আগে এলোমেলো জিনিসগুলো তাতে ভরে ঢাকনা লাগিয়ে দিলেন। বাক্সটা নিজেই সাজের অংশ, আর ভেতরে কী আছে কেউ জানে না। এই একটা বাক্স গোছানোর সময় অর্ধেক করে দেয়, আর চাবিটাও পরদিন সকালে এক জায়গায় পাওয়া যায়।
5. বাথরুমের বাইরে যা দেখা যায়
মেহমান হাত ধুতে যাবেই। আর বাথরুমের দরজার সামনে বা ভেতরে যদি কাপড়ের স্তূপ থাকে, ঘরের বাকি সব সাজ এক মুহূর্তে মাটি।

ময়লা কাপড়ের জন্য একটা ঢাকনাসহ লন্ড্রি বাস্কেট রাখুন। ঢাকনাটাই আসল। ঢাকনা থাকলে বাস্কেট ভরা থাকলেও ঘর গোছানো লাগে। আর বাথরুমে একটা পরিষ্কার তোয়ালে আর সাবান, এই দুটোতেই মেহমান বোঝেন এই বাসায় যত্ন আছে।
6. একটা নরম আলো আর একটা হালকা গন্ধ
সন্ধ্যায় মেহমান এলে ঘরের সব টিউবলাইট জ্বালিয়ে দেওয়াটা অভ্যাস। কিন্তু সাদা কড়া আলোয় ঘর দেখায় অফিসের মতো। বসার জায়গার পাশে একটা টেবিল ল্যাম্প বা হলুদ আলোর একটা বাতি জ্বালান, আর উপরের কড়া আলোটা বন্ধ রাখুন। আলো নরম হয়, ঘরটা “বসার মতো” লাগে, আর মেহমান নিজের অজান্তেই আরাম করে বসেন।

গন্ধের ব্যাপারটাও একই। রান্নার গন্ধ ঢাকতে এয়ার ফ্রেশনারের স্প্রে করলে দুটো গন্ধ মিশে যায়। তার চেয়ে মেহমান আসার আধা ঘণ্টা আগে জানালাগুলো খুলে দিন, আর টেবিলে ছোট একটা বাটিতে কয়েকটা বেলি বা রজনীগন্ধা রাখুন। ঘরে একটা হালকা, তাজা গন্ধ থাকে, যেটা কেউ আলাদা করে খেয়াল করে না, কিন্তু সবাই টের পায়।
7. পায়ের নিচে যা আছে
মেহমান জুতা খুলে যেখানে পা রাখে, সেখানে যদি ঠান্ডা টাইলস বা পুরোনো পাপোশ থাকে, প্রথম অনুভূতিটাই ভালো হয় না। ঘরের সাজে মেঝে সবচেয়ে অবহেলিত জায়গা, অথচ মেহমান পুরো সময় এর উপরেই থাকে।

সোফার সামনে একটা ফ্লোর ম্যাট রাখুন, বিশেষ করে শীতের মৌসুমে। এটা ঘরটাকে “সাজানো” থেকে “উষ্ণ” করে তোলে, আর সোফা-টেবিলের জায়গাটাকে আলাদা একটা বসার কোণা বানিয়ে দেয়।
কেন এই ছোট জিনিসগুলোই বড় পার্থক্য করে
মেহমান আপনার সোফার দাম জানেন না, দেয়ালের রঙের নাম জানেন না। তিনি যা বোঝেন তা হলো, এই ঘরে যত্ন আছে কি নেই। আর যত্ন বোঝা যায় ছোট জিনিসে: টিস্যুটা কোথায় রাখা, ফলটা কীসে রাখা, চাবিটা কোথায় থাকে।
তাই ঘর সাজাতে বড় খরচ লাগে না। লাগে কয়েকটা ঠিক জিনিস, ঠিক জায়গায়। আর একবার এই জিনিসগুলো ঘরে থাকলে পরের বার মেহমান আসার ফোন এলে আর দৌড়াতে হয় না। ঘর সবসময়ই তৈরি থাকে।
শুরু করবেন কোথা থেকে
সাতটা একসাথে করতে হবে না। যে টেবিলটা মেহমানের সামনে থাকে, সেটা দিয়ে শুরু করুন। একটা টিস্যু বক্স কভার আর একটা ছোট গাছ, এই দুটোতেই টেবিলটা বদলে যায়। বাকিগুলো একটা একটা করে, যখন সুযোগ হয়।
কাকাতোয়ায় এই 7টা কাজের প্রায় প্রতিটার জন্য কারিগরের হাতে বোনা, টেকসই জিনিস আছে। সারা বাংলাদেশে 1 টাকা অগ্রিম ছাড়াই ক্যাশ অন ডেলিভারি, আর হাতে পেয়ে পছন্দ না হলে ফেরত দেওয়ার সুযোগ। ঘরে বসে দেখুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
প্রশ্নোত্তর
মেহমান আসার আগে সবচেয়ে আগে কী করব?
সোফার সামনের টেবিলটা খালি করুন। তিনটার বেশি জিনিস রাখবেন না। এই একটা কাজেই ঘরের অর্ধেক গোছানো লাগে।
কম খরচে ড্রয়িংরুম সুন্দর করার উপায় কী?
বড় কিছু না কিনে ছোট তিনটা জিনিস বদলান: টিস্যু বক্স কভার, একটা ছোট গাছ, আর দরজার সামনের দেয়ালে একটা ওয়াল ডেকর।
পাটের জিনিস কি ঘরে বেশিদিন টেকে?
হ্যাঁ, শুকনো জায়গায় রাখলে বছরের পর বছর টেকে। ভিজলে ছায়ায় শুকিয়ে নিলেই হয়। যত্নের নিয়ম বিস্তারিত আছে আমাদের প্রশ্ন ও উত্তর পাতায়।








